সর্বশেষ আপডেট :
কলাপাড়ায় আ.লীগ কার্যালয় এখন বিএনপির নেত্রীর ‘গুদামঘর’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় টিকা সংকট ও হাম সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ, স্বাস্থ্যখাতে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রযাত্রা: তৎকালীন সংসদে মহিববুর রহমানের জোরালো দাবি ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণা বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করছি” — কালুরঘাটে মেজর জিয়ার আহ্বান দেশে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত এখন গড়ে মাত্র ১০ দিনের—যা সম্ভাব্য বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে “খুব দ্রুতই গণবিস্ফোরণ ঘটাবে আওয়ামী লীগ”— নানক যুক্তরাষ্ট্রের ‘মহাপ্রহর’: বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বন্ধ ভিসার দরজা! চমকে দেওয়া ঘোষণা, স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কায় হাজারো পরিবার তৃণমূলকে বিপদে রেখে জাঁকজমকপূর্ণ ঈদ উদযাপন: কেন্দ্রীয়  যুবলীগ নেতা সোহাগকে ঘিরে বিতর্ক তৃণমূলকে বিপদে রেখে জাঁকজমকপূর্ণ ঈদ উদযাপন: কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সোহাগকে ঘিরে বিতর্ক
কলাপাড়ায় আ.লীগ কার্যালয় এখন বিএনপির নেত্রীর ‘গুদামঘর’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

কলাপাড়ায় আ.লীগ কার্যালয় এখন বিএনপির নেত্রীর ‘গুদামঘর’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

​নিজস্ব প্রতিবেদক, কলাপাড়া :
রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলে কত কিছুই না ঘটে! কিন্তু পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যা ঘটল, তা রীতিমতো টক অফ দ্য টাউন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সেটি দখল করে নিজেদের ব্যক্তিগত ‘গুদামঘর’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী লিলি বেগম ও তার স্বামী মিলন বেপারীর বিরুদ্ধে।
কার্যালয়ের ভেতরে এখন রাজনৈতিক পোস্টার-ব্যানারের বদলে শোভা পাচ্ছে জ্বালানি কাঠ আর গৃহস্থালির আসবাবপত্র!
​গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ভেতরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে লাকড়ি ও পুরনো আসবাব। উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারী সেখানে মালামাল রাখছেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাবি, ৫ আগষ্ট ক্ষমতায় পটপরিবর্তনে একাধিকবার কার্যালয় টি ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ করে কার্যালয়ের ভোতরে থাকা এসি,ফ্যান, এলোমিনিয়ামের জানালা ও আসবাপত্র ভাংচুর, কম্পিউটার ও মূল্যবান সম্পদ লুটপাট করা হয়।
তারা বলছেন, সরকারের কাছ থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে এবং সম্মানজনক সালামি দিয়ে ৯৯ বছরের জন্য ওই দুই শতক খাসজমি দলীয় কার্যালয়ের জন্য আওয়ামী লীগ সম্পাদকের নামে বন্দোবস্ত নেওয়া হয়। এরপর পৌরসভা থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন নিয়ে দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
অনেকে ধারণা করছেন আওয়ামীলীগ অফিস দখলের বিষয়ে বিএনপির উর্ধতন নেতৃবৃন্দ অবগত থাকতে পারে এবং ৫ আগষ্ট পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী কার্যালয় টি লুটপাট,অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের আলামত নষ্ট করে দায় এড়াতেই মিথ্যা দাবি করে পার্টি অফিস দখলের নাটক সাজানো হয়েছে।
সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান এই ঘটনাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত নিয়ে বৈধভাবে নির্মিত এই অফিসটি তালা ভেঙে অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
​অভিযুক্ত মিলন বেপারীর দাবি: তিনি কোনো তালা ভাঙেননি। তার দাবি, “জায়গাটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। ঝড়ে গাছ উপড়ে গিয়েছিল, তাই সেগুলো কেটে এখানে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে আছে।”
​মহিলা দল নেত্রী সালমা বেগম লিলি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তার শ্বশুরের জমি দখল করে জোরপূর্বক এই অফিস তুলেছিল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির শব্দদূষণ আর ভোগান্তি তারা অনেক সহ্য করেছেন।
ঘটনার দায় নিতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং দল এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না।”
এদিকে, এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক অফিসের এই ‘গুদাম রুপান্তর’ এখন কলাপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জমিটি কি আসলেই দখল করা হয়েছিল, নাকি এখন দখল হচ্ছে—এই আইনি মারপ্যাঁচের সমাধান কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved
কারিগরি সহায়তা: Amader Kotha